কচুয়ায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনে মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহিমানগর বাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে বাজার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন এমপি।

গতকাল শুক্রবার  বিকেলে রহিমানগর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, বিশেষ করে রাস্তা সম্প্রসারণ,ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

রহিমানগর বাজার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো: মিলন গাজীর সভাপতিত্বে এবং এম আর মিজান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনের সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবি, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদিন স্বপন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: শরীফ উদ্দীন মিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো:আবু নাছির, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা  এবং ইউরোপীয়ান জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি নূর মোহাম্মদ কচি এবং কচুয়া উত্তর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর আহমদ সেলিম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা.  মো: সরোয়ার, সাবেক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু সঞ্জিত সরকার, ব্যবসায়ী মনির হোসেন, মো. সোহাগ, মো. নজরুল ইসলাম, বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও ৯ নং কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুস সালাম সওদাগর, মাই ওয়ান এর স্বত্বাধিকারী ও বিএনপি নেতা মো: মিলনসহ আরও অনেকে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা রহিমানগর বাজারের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে যানজট, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের চলাচল ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রহিমানগর বাজারের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য:  গত ৫ আগস্ট’ ২০২৪ এর পর পূর্ণাঙ্গ বাজার কমিটি হলেও বাজারের দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ায় রহিমানগর বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বাজারের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাশিয়ার সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার প্রত্যাশা করেছেন এবং এর পূর্বে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নিমিত্বে গাজী ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোহাম্মদ মিলন গাজীকে সভাপতি,

মোল্লা অল ইলেক্ট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী এম আর মিজান মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক এবং বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু সঞ্জিত সরকারকে ক্যাশিয়ার করে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ঘোষণার চিন্তাভাবনা  করছিল!কিন্তু সাবেক সভাপতি ও সাবেক ১১ নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ফারুকী এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ কবির হোসেন মঞ্চে না গিয়ে পেছন থেকে দালালদের স্টেইজ থেকে নামিয়ে দেয়ার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

অপরদিকে মন্ত্রী মহোদয় সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ফারুকী  এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির হাজীকে মঞ্চে উঠার অনুরোধ করেন।  জাহাঙ্গীর আলম ফারুকী এবং কবির হাজী মঞ্চে উঠলেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, অবস্থার বেগতিক দেখে মন্ত্রী মহোদয় আমন্ত্রিত অতিথি সহ দুই গ্রুপের সকল নেতাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। পরে মন্ত্রী মতবিনিময় সভার পুরো নিয়ন্ত্রণ  নিজের হাতে নিয়ে নেন  এবং উভয় গ্রুপের উপর নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন।

এক সপ্তাহ পরে মন্ত্রী নিজ বাড়ির হল রুমে (গোবিন্দপুরে) রহিমা নগর বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে নতুন কমিটি ভোটের মাধ্যমে গঠন করে দিবেন বলে তাদের আশ্বাস দেন, তবে তার আগে ব্যবসায়ী নেতাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে যান;বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন এবং ট্রেডলাইসেন্স সংগ্রহ করার জন্য।

বিজ্ঞাপন

সম্পর্কিত খবর