শাহরাস্তিতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা, ৩ ড্রেজার অকেজো

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির টপসয়েল থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে অনুমোদনবিহীনভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযানে কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অপরাধে মো. রাজু (২২) গং, সাং—রায়শ্রী উত্তরকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ সময় মনোহরপুর এলাকায় ৩টি ড্রেজার অকেজো করা হয়। এছাড়া নরিংপুর এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে শাহরাস্তির সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার সদস্য ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ উত্তলনের নির্দেশ

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ।

তিনি জানান, যদিও গত ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন অর্থাৎ ৫ আগস্ট বিকেলে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে নি’হ’ত হন সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান। কিন্তু ওই সময় বিনা ময়নাতদন্তে তাদের ম’র’দে’হ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে এই দুজনের মৃ’ত্যু নিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। সম্প্রতি চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ম’র’দে’হ দুটি কবর থেকে তুলে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়; যার উপস্থিতিতে ম’র’দে’হ কবর থেকে তোলা হবে। তবে কবে তা কবর থেকে তোলা হবে, এই বিষয় এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এমনটি জানান, পুলিশের এই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর থেকে সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান গাড়িতে পালাতে গিয়ে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় জনতার হাতে আটক হন। পরে উত্তেজিত জনতার মা’র’ধ’রে’র শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে মা’রা যান। এই ঘটনার একদিন পর তাদের ম’র’দে’হ গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন স্বজনরা। তবে ওই সময় এই নিয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি সংশ্লিষ্ট থানায়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একই সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন সেলিম খান। পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কয়েক বছরে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান তিনি। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে জমি অধিগ্রহণ নিয়েও নয় ছয়ের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

উন্নয়নের সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি —বাঁধা কোথায়?

হাজীগঞ্জ বাজারে সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। তবে সড়কের মাঝখানে ৫–৭টি বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় কাজ শেষ হওয়ার পর যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বাজারের সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার আগে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, সড়ক বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
পরিকল্পিত, নিরাপদ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আলগী বাজারে ঝুলছে বিদ্যুতের তার, যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আলগী বাজারে ঝুলছে বিদ্যুতের তার, যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, হাইমচর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যগলিতে বিদ্যুতের খাম্বা থেকে বিভিন্ন দোকানে নেওয়া সংযোগের তার নিচু ও ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ব্যস্ত এই গলিতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী, রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও তারগুলোর উচ্চতা ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিসমিল্লাহ হার্ডওয়্যারের সামনের একটি বিদ্যুৎ খাম্বাকে ঘিরে একাধিক সংযোগের তার এলোমেলোভাবে নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে। গলিটি বাজারের অন্যতম ব্যস্ত পথ হওয়ায় নিচু হয়ে থাকা তারগুলো যানবাহন চলাচলের সময় ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড় ট্রাক ও মালবাহী লরি বাজারে প্রবেশের সময় অতীতে ঝুলন্ত তারের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে তার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে জানান তারা।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সংস্কারের পর এর উচ্চতা প্রায় চার ফুট বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ খাম্বা ও ফিলার থেকে নেওয়া সংযোগগুলোর তার সেই অনুপাতে পুনর্বিন্যাস না হওয়ায় কিছু তার বর্তমানে তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে একই স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচল করায় ঝুঁকিও বাড়ছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যগলিটি দুর্গাপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলগী বাজার সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম পথ। ফলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়া, শর্টসার্কিট কিংবা বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটলে পথচারীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারের দোকানগুলোতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য ও অর্থের লেনদেন হয়। কোনো বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামালের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহণ ও মজুদকরণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়ন এবং ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মন্ত্রী বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশের বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর কথাও বলেন তিনি। নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে,তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলেদের এসব জাল না কেনার বিষয়ে সচেতন করার কথা বলেন তিনি।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে: হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান

চাঁদপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ এ বি এম আশ্রাফ উদ্দিন নিজান বলেন, মাদকসেবীদের একসঙ্গে রাখা যাবে না। তাদের আলাদাভাবে রাখতে হবে। মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুর ইলিশের প্রধান প্রজনন কেন্দ্র। সারা পৃথিবী চাঁদপুরকে ইলিশের জন্য চেনে। তাই ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কোস্টগার্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, মালামাল জব্দ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো মামলা বা কাউকে আটক করা হয়নি—এটা কেন হবে? জব্দ করা মালামালের ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা করতে হবে এবং জড়িতদের আটক করার নির্দেশ দেন তিনি।

চাঁদপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় মাত্র দুইজন সহকারী অফিসার দিয়ে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুইপ নিজান জানান, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল, সেটি পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। বিদেশগামীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েও যেন অযথা ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুইপ বলেন, এটা তারেক রহমানের সরকার। সরকারের নীতিমালার বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ীই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা নিজেরা উপস্থিত না হয়ে প্রতিনিধি পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুইপ এ বি এম আশ্রাফ উদ্দিন নিজান। গুরুত্বপূর্ণ জেলা পর্যায়ের সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের সরাসরি উপস্থিত থেকে নিজেদের কার্যক্রম ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনে তৎপরতা বেড়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে অফিস আছে তা ভূমি অফিসের সরকারি জায়গায়। সেই ভবনে মাদকাসক্তদের আস্তানা হয়ে উঠেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে লোকদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তারা তারা নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, সাবরেজিস্টার অফিস এখনো পূরণো ধারায় চলছে। আমরা দোষারোপ না করে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী করতে হবে। সকল ক্ষেত্রেই আইন মেনে চলতে হবে। এত বছর যেভাবে চলেছে, এখন আর সেভাবে চলা যাবে না। নতুন বাস্তবতায় সবাইকে আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নতি করা দরকার। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা করা খুবই জরুরি। চাঁদপুরের সকল নাগরিক কৃতজ্ঞ থাকবে। রোগী মারা যাওয়ার পর সমাজসেবার বরাদ্দ দিয়ে লাভ কী? আবেদন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সময়মতো সরকারি সহায়তা পান।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার আমাদের না জানিয়ে আমাদের নির্বাচনী এলাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা কষ্ট পাই। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, খুনের মামলার আসামিরা জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন—এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসনের কোনো আচরণে যেন এমনটা প্রকাশ না পায় যে, তারা বিশেষ কোনো দলের নিয়োগপ্রাপ্ত।

ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভূমি অফিস এখনো পুরোনো কায়দায় চলছে। আমরা সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আন্তরিকতা চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, কোন উপজেলায় কোন দপ্তরের কী কী কাজ হচ্ছে বা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থাপন করলে সবাই জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে।

কচুয়ায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সম্পর্ক নেই জামায়াতের

তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ।।

কচুয়ায় ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার নুরুল আলমের সাথে জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই৷৷
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কচুয়ায় মাদরাসার ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. নুরুল আলমকে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে “জামায়াত কর্মী/নেতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট—মো. নুরুল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১২ নং আশরাফপুর ইউনিয়ন শাখার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তাকে জামায়াতের কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি।
এখানে আরও স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, নির্বাচনের সময় কোনো ব্যক্তি আমাদের পক্ষে কাজ করেছেন, প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন কিংবা আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন—এ কারণেই তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত বা জামায়াতের কর্মী/নেতা হয়ে যান না। নির্বাচনী সমর্থন, ভোট প্রদান বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার দায়ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর বর্তায় না।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নাম জড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সকল সংবাদমাধ্যমের প্রতি আমাদের অনুরোধ—কোনো ব্যক্তিকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় করানোর আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দায়িত্বশীল সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন এবং নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করুন।
———
আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী,, কচুয়া উপজেলা শাখা, কচুয়া, চাঁদপুর।
সাধারন সম্পাদক
১২ নং আশরাফপুর ইউনিয়ন শাখা
কচুয়া, চাঁদপুর

ফরিদগঞ্জে মাদক বিরোধীদের ওপর হামলা, মেম্বারসহ আহত ৮

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী গ্রামে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সম্প্রতি মাদক কারবার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য , নারী, কিশোরীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফরিদগঞ্জের গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়নের মানুরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পূর্ব মানুরী ঠাকুর বাড়ির ফারুক, হাছানসহ এলাকার আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন চুরি এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ পেটানোর অভিযোগ আছে। সম্প্রতি আসামি ছিনতাই ও পুলিশ পেটানোর মামলায় তারা বেশকিছুদিন জেলও খেটেছে।
এলাকাবাসীর চাপে ঠাকুর বাড়ির লোকজন সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গত শুক্রবার ফারুক ও হাছানকে মাদক ব্যবসা
ছাড়তে অথবা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার মধ্যরাতে পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির কাউসার বৈদ্যের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ঠাকুর বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
কাউসার বৈদ্যের নেতৃত্বে হামলাকারীদের মধ্যে ছিল এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি ও পুলিশ পেটানো মামলায় জেলখাটা আসামি ঠাকুর বাড়ির ফারুকসহ পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির আশেক আলীর ছেলে বিল্লাল ও হৃদয়, পাঠান বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে রাফি, মিজানের ছেলে মাসুদ, দিদার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে মোমিন, জলিল মাস্টার বাড়ির তানভীর, খাদাম বাড়ির হোসেনসহ আরও ৭/৮ জন।
হামলার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীদের বাঁচাতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন ইউপি সদস্য ও পশ্চিম মানুরী বৈদ্যের বাড়ির আল-আমিন মেম্বার। এ ঘটনায় অন্য আহতরা হলেন, ঠাকুর বাড়ির আজাদ, তার স্ত্রী সাথী, তাদের ১১ বছরের কন্যা রিয়া, জাহাঙ্গীরের ছেলে আরমান, একই বাড়ির রহিম, মানিক, আরিফ, সেলিমসহ আরও কয়েকজন।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ আসে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই পুলিশ আসার খবর পেয়ে অস্ত্র নিয়ে সরে যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
আজাদের স্ত্রী সাথী বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১১টা-পৌনে ১২টার দিকে বৈদ্যের বাড়ির কাউসারের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালায়। তারা অন্যদের সঙ্গে আমার স্বামী আজাদকে মারতে থাকে। আমি আর আমার মেয়ে তাকে (আজাদ) বাঁচানোর চেষ্টা করলে কাউসার এবং আরও কয়েকজন আমার মেয়ে (রিয়া) এবং আমাকেও মারধর করে।’
ঠাকুর বাড়ির আজাদ বলেন, শুক্রবার বাড়ির সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফারুক ও তাদের পরিবারকে মাদক ছাড়ার জন্য চাপ দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা শনিবার আমাদের বাড়ির লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
আল-আমিন মেম্বার জানান, ঠাকুর বাড়ির লোকজনের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছেন।
অভিযুক্ত কাউসার বৈদ্য বলেন, ‘শনিবার ঘটনার সময় তিনি দোকানের কাছে ছিলেন। অনেক মানুষ ঠাকুর বাড়ির দিকে যাচ্ছে দেখে তিনিও যান। তবে তার কোনো লোক সেখানে মারামারি করেননি। মূলত ঘটনা হচ্ছে অটোচালক মানিকের সঙ্গে ফারুকের। মানিক ফারুকের বাড়ির গেট খুলে নিয়ে গেছে। আর আমি কোনো কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেই না। আমার যারা ছোট ভাই তাদেরকে আদর স্নেহ করি। মূলত আমি সংসদ সদস্য এমএ হান্নানের নির্বাচনের করার কারণে এলাকায় কেউ কেউ ভুল তথ্য দিচ্ছে।’
ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. হেলাল বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে বলেছি থানায় এসে অভিযোগ দেয়ার জন্য। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। কেউ এখন পর্যন্ত থানায় এসে অভিযোগ দেয়নি। থানা থেকে ওই এলাকার দূরত্ব অনেক বেশি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।

হাইমচরের পাঠান মোড়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

হাইমচরের পাঠান মোড়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব,হাইমচর প্রতিনিধি।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের পাঠান মোড় এলাকায় সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভয়াবহ ফাঁপা অংশ তৈরি হয়েছে। এতে সড়কের একপাশ ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাইরে থেকে সড়কের উপরের অংশের কিছুটা অক্ষত থাকলেও নিচের মাটি সরে যাওয়ায় বড় একটি অংশ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় সড়কের আরও বড় অংশ ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একপাশের মাটি ও অংশবিশেষ ধসে নিচে নেমে গেছে। ভাঙা অংশের নিচে বেশ বড় ও গভীর ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা গর্তের ভেতরে ফাঁপা বা সুড়ঙ্গের মতো অংশ বলে মনে হচ্ছে। সড়কের পিচঢালা অংশের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ওপরের অংশও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে বা অসতর্ক অবস্থায় চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ভারী কোনো যানবাহন ওই অংশ দিয়ে চলাচল করলে সড়কের অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু উপরের অংশে মাটি বা ইট ফেলে সাময়িক মেরামত না করে সড়কের নিচে কী কারণে মাটি সরে গেছে তা তদন্ত করে দ্রুত টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেরি হলে গর্তটি আরও বড় হয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চাঁদপুরে ‘তারুণ্যের প্রত্যয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে ‘তারুণ্যের প্রত্যয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

‘যুক্তির আলোয় জাগুক তারুণ্য, গড়ে উঠুক সুন্দর আগামী’ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের প্রত্যয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ আগস্ট বুধবার আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন, চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিবেট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান নোমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাহিয়ান ইসলাম কায়েসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য কিশোরকণ্ঠ নিয়মিত বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিবেট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান নোমান বিতর্কের নিয়মকানুন ও একজন ভালো বিতার্কিক হওয়ার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

প্রতিযোগিতায় আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ১০টি দল অংশগ্রহণ করে। দুই ধাপের বাছাইপর্ব শেষে চারটি দল সেমিফাইনালে অংশ নেয়। সেমিফাইনাল শেষে ‘ডিজিটাল বিনোদন শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গঠনে প্রধান অন্তরায়’ বিষয়ের ওপর ‘মাটির রোদ’ ও ‘যুক্তির দর্পণ’ নামে দুটি দল ফাইনালে অংশগ্রহণ করে। যুক্তিতর্কের পর ‘মাটির রোদ’ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল বিতার্কিককে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল ‘মাটির রোদ’, রানার্সআপ দল ‘যুক্তির দর্পণ’ এবং শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক তাসনিম মিনহাকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।