ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে চাঁদপুরে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ এবং জেলা প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে সমবেত হয়। এ সময় চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং সেখানে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
ঘেরাও কর্মসূচির সময় জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিক্ষোভকারীরা এ সময় প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভ চলাকালে পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে রাজধানীতে শরীফ ওসমান হাদীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাঁকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। মৃত্যুর খবরে চাঁদপুরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার কর,খুনিদের বিচার চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, শরীফ ওসমান হাদীর ওপর গুলি চালানো সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
chandpurdiganta.com The Daily Chandpur Diganta
