মঙ্গলবার , জুন ১৬ ২০২৬

হাজীগঞ্জেমাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের আড়ালে নানান রকম অবৈধ কার্যকলাপ, আটক ৫

স্টাফ রিপোর্টার

হাজীগঞ্জের হলুদপট্রিতে অবস্থিত মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসাসহ নানান রকম অবৈধ কার্যকলাপের দায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারী-পুরুষসহ হোটেলের মালিক, ছেলে ও ম্যানেজারসহ ৫জনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাজীগঞ্জ থানার এসআই জয়নাল।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপরে অভিযান চালিয়ে হোটেল কক্ষে অবৈধ কাজ করার সময় নারী-পুরষকে আটক করা হয়েছে। হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ অবৈধকাজে ব্যবহার এবং হোটেলে অনৈতিক কাজ করানোর দায়ে হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, তার বাবা আনোয়ার হোসেন, ম্যানেজার রায়হানকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের দীর্ঘ দিন ধরে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নারী-পুরষ জোড়ায় জোড়ায় আসতে থাকে। আশে-পাশের মানুষগুলো তাদের ভয়ে মুখ বন্ধ রাখে।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ১৬ মে এ হোটেলে এক অসহায় যুবতীকে হাটিলার পাতানিশ গ্রামের ওমর নামে এক ব্যক্তি এনে কয়েকবার ধর্ষণ করে।

শনিবার দুপরে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ ভেঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পূলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরবর্তীতে ও লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তির নাম মো. ইলিয়াস কাজী (৬৫) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নের ঘনিয়া গ্রামের কাজী বাড়ীর আদম আলী কাজীর ছেলে।

এর পূর্বে ওই হোটেলে উত্তর বঙ্গের এক ব্যবসায়ীকে আটক করে মারধর করে তার কাছ থেকে অর্ধ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এতো ঘটনার পরেও কিভাবে হোটেলটি এখনো চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল মান্নান জানান, হোটেলের মালিক, মালিকের ছেলে, ম্যানেজার ও অবৈধ কাজে জড়িত নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, এ সব নানান রকম অবৈধকার্যকলাপের দায়ে হোটেলটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। তারা অমন্যা করে আবারে খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।