বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৬ ২০২৬
জনতা ব্যাংকের ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক সিনিয়র অফিসার মো. জাবেদ হোসাইন।

ব্যাংকে আত্মসাত : এক কর্মকর্তা আটক, আরেকজনের আত্মহত্যা

শাহরাস্তি উপজেলায় জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটকের পর আরেক কর্মকর্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শাহরাস্তি থানা পুলিশ জনতা ব্যাংক সুচিপাড়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানের লাশ সুচিপাড়া বাজারের আপন প্লাজার ৫ম তলার একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে তার বাসার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পাশের কক্ষে থাকা সহকর্মী নাজিম উদ্দিন দরজায় নাড়া দেন। ভেতর থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে তিনি বিষয়টি শাখা ব্যবস্থাপক কার্তিক চন্দ্র ঘোষকে জানান। এ সময় কার্তিক শাহরাস্তি থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে বেলা ১১ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। রাকিবুল হাসান শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাচুখাকান্দি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে আগের দিন সোমবার ওই ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৮৪ লাখ আত্মসাতের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. জাবেদ হোসাইনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ওই ব্যাংক ম্যানেজার কার্তিক চন্দ্র ঘোষ ও শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার।

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, গ্রাহকের ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৪ টাকার গরমিল দেখতে পেয়ে ব্যাংক ম্যানেজার ১৩ এপ্রিল শাহরাস্তি থানায় জাবেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. জাবেদ হোসাইন গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত তিনজন গ্রাহকের ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৪ টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব টাকা লক্ষ্মীপুর, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও যশোরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠান। বিষয়টি নজরে আসার পর ব্যাংক ম্যানেজার কার্তিক চন্দ্র ঘোষ রোববার শাহরাস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে লোন অফিসার রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে তিনি কোনো অভিযোগ করেননি।

ওসি আবুল বাসার বলেন, ‘রাকিব হাসানের মৃত্যুর পেছনে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও আমরা তদন্ত করছি।’