চাঁদপুর শহরে স্পিড ব্রেকার না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সাইফুল ইসলাম আকাশ

চাঁদপুর শহরের আঞ্চলিক ও মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার (গতি রোধক) অপসারণের পর তা পুনরায় স্থাপন বা সংস্কার না করায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে পথচারী এবং শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন সড়কে থাকা স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণ করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেগুলো পুনরায় নির্মাণ বা সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বেগম মসজিদ মাদ্রাসার পূর্বপাশ, জে.এম সেনগুপ্ত রোড ও কদমতলা রোড, আল-আমিন স্কুল সংলগ্ন সড়ক, মিশন স্কুল, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডি.এন উচ্চ বিদ্যালয়, পীর মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়, জোড়পুকুর পাড়ের ওয়াইডব্লিউসিএ (YWCA) স্কুল, গণি উচ্চ বিদ্যালয়, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আক্কাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল স্কুল সংলগ্ন এলাকা এবং ওয়ারলেস মোড়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ও বাস স্ট্যান্ড মোড়সহ বিভিন্ন তিন রাস্তার মোড় এবং চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের জনবহুল অংশগুলোতে কোনো গতি রোধক নেই।

এর ফলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন এসব সড়কে তুলনামূলক তীব্র গতিতে চলাচল করছে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সড়ক পারাপারে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময়ে সড়কে শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্থানীয় নাগরিকরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেসব স্থানে আগে স্পিড ব্রেকার ছিল এবং যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনবহুল এলাকা রয়েছে, সেসব স্থানে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা দরকার। একই সঙ্গে সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন ও যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারির দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সড়কগুলোতে পুনরায় স্পিড ব্রেকার বা গতি রোধক স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শহরের সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চাঁদপুরের স্থানীয় সচেতন নাগরিক মহল।

বিজ্ঞাপন

সম্পর্কিত খবর