বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৬ ২০২৬

হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তিতে আবুল হোসেনকে জোট প্রার্থী না করায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ

আদনান মুরাদ

হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি আসনে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা আবুল হোসেনকে জোটের প্রার্থী না করায় জামায়াতে ইসলামীর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ মানুষের  মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া একজন পরিচিত মুখকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক আত্মঘাতী ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বসে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আবুল হোসেন এলাকায় সংগঠন গড়ে তোলা, দমন-পীড়নের সময় কর্মীদের আগলে রাখা এবং ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা উপেক্ষা করে জোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতারা বলছেন, “এই আসনে জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল আবুল হোসেনকে কেন্দ্র করেই। তাকে বাদ দিয়ে জোট প্রার্থী দেওয়ায় ভোটের মাঠে কর্মীদের উদ্যম ভেঙে পড়েছে।” অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ভোটের ফলাফলে পড়বে।

স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে ‘সমঝোতার রাজনীতি’ চাপিয়ে দিলে সংগঠনের ভেতরে আস্থা সংকট তৈরি হয়। ইতোমধ্যে তৃণমূলের অনেক কর্মী নীরব প্রতিবাদে প্রচার কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যিনি এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, যাকে মানুষ চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুই একটি প্রার্থী বদলের বিষয় নয়; এটি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ও জোট রাজনীতির বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত।

সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তিতে আবুল হোসেনকে জোট প্রার্থী না করায় যে ক্ষোভ ও হতাশার আগুন জ্বলছে, তা দ্রুত প্রশমিত না হলে আসন্ন নির্বাচনে জোটকে কঠিন মূল্য দিতে হতে পারে—এমন সতর্কবার্তাই দিচ্ছেন মাঠের নেতাকর্মীরা।