বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৬ ২০২৬

হাজীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক ও বৃদ্ধ এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক কিশোর শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবক মো. নাজমুল হাসান সানি (২২) ও মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ মো. সফিক উল্যাহ্ (৬৫) এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী সাইফ বিন আনোয়ার (১১) মারা যায়।

নিহত যুবক নাজমুল হাসান সানি উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের কাইজাঙ্গা গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি, বর্তমানে একই ইউনিয়নের ঘাষিপুর গ্রামের নতুন পাটওয়ারী বাড়ির মো. আবুল বাসারের ছেলে। সে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি সে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে কর্মরত ছিলো।

নিহত মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ মো. সফিক উল্যাহ্ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাওকরা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

অপর দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত কিশোর সাইফ বিন আনোয়ার হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকার কাসারি বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেন লিটনের একমাত্র ছেলে। সে হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও হাজীগঞ্জ বাজারস্থ দারুল উলুম আহমাদিয়া কামিল মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, রবিবার রাতের কোন এক সময় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইউএনও’র বাসভবন সংলগ্ন স্থানে অজ্ঞাত গাড়ি চাপায় গুরুতর আহত হন মো. সফিক উল্যাহ। পরে পথচারিরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেপার করা হয় এবং সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মারা যাওয়া সফিক উল্যাহ্ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে আলীগঞ্জ ও কংগাইশ এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন।

এদিকে রবিবার বিকালে অন্যান্য শিশুদের সাথে বল নিয়ে খেলাধূলা করছিলো সাইফ। খেলাধূলার এক ফাঁকে বলটি মাদরাসার টিনের চালায় আটকে যায়। এ সময় চালায় ওঠে বলটি নামিয়ে আনতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। তাৎখনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুমিল্লায় রেপার করেন এবং এদিন রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাইফ। রাতেই জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অপরদিকে গত ১৮ মে, রোববার রাতে কাজ শেষে স্কুল শিক্ষক বোনের সাথে সিএনজিযোগে হাজীগঞ্জ থেকে শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক যাচ্ছিলেন নাজমুল হাসান সানি। পথে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এনায়েতপুর এলাকায় যাত্রী ছাউনির সামনে দাঁড়ানো একটি ট্রাকের পিছনে সিএনজিটি ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রী সানি ও তার বোন গুরুতর আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত সানি ও তার বোনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেপার করেন।

পরবর্তীতে সানি শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ৮দিন পর আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় সে মারা যায়। নিহত সানি উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ঘাষিপুর গ্রামের নতুন পাটওয়ারী বাড়ির আবুল বাসারের ছোট ছেলে।

তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া স্ব-স্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর এবং তিনটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে।