মতলব উত্তর উপজেলায় আলো ছড়াচ্ছে না সোলার লাইট। সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইটগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। লাইটগুলো মেরামতে মাধ্যমে সচল না করায় অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ উপজেলার বালুরচর, কালিপুর, ছেংগারচরবাজার, ফরাজিকান্দি, গজরা, ঘনিয়ারপাড়, হানিরপাড়, ইসলামাবাদ, আবুরকান্দি, বাবুবাজার, কলাকান্দা, টরকী, লক্ষীপুর, দুর্গাপুর, কালিরবাজার, সাদুল্লাপুর, মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় অধিকাংশ সোলার প্যানেলে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অনেক জায়গায় ব্যাটারি চুরি হয়েছে বা খোলার ঢাকনাগুলো ভাঙা, লাইটের পোস্ট হেলে পড়েছে এবং খুঁটিসহ ভেঙে পড়ে আছে।
বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, লাইটগুলো লাগানোর পর উদ্যোগটি ভালোই মনে ছিল। যানবাহন ও পথচারী চলাচলে ভালোই হয়েছে। কিন্তু দেখলাম কয়েক মাসের মধ্যে সোলার লাইট গুলো অকেজো হয়ে গেলো। এগুলোতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়ে এ গুলো নস্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত সোলার লাইট মেরামতের মাধ্যমে মানুষের উপকারে নিয়ে আসা।
অটোচালক ওমর আলী জানান, মোরে মোরে লাইট গুলো থাকায় রাতের বেলা গাড়ি চালাতে উপকার হয়েছিল। এখন দেখছি এগুলো বেশির ভাগই নস্ট। এগুলো ঠিক করা হলে আমাদের সুবিধা হতো।
মতলব উত্তর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, সোলার লাইট তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নের নামে লোক দেখানো প্রকল্প চালিয়েছিল। এসব সোলার লাইট প্রকল্পের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে জনগণের টাকায় লুটপাট করে নিয়ে গেছে। কেনো লাইট গুলো অল্প দিনেই নস্ট হয়ে গেছে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এসব লাইট সংস্কার না করলে রাতে চলাচলে ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি তারা চান, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের সময় মান নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হোক।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, আমি কয়েক মাস হলো এ উপজেলায় এসেছি। সোলার লাইটগুলো অকেজো আমি দেখেছি। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, তাদের চুক্তির মেয়াদ তিন বছর শেষ হয়ে গেছে। এখন এগুলো পুনরায় মেরামতের জন্য তালিকা তৈরি করে জেলা পর্যায়ে আবেদন পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়াসাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নিয়ে কিছু মেরামত করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন বিষয়টি সম্পর্কে ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। আমাদের মাঠপর্যায়ের টিম সোলার লাইটগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করছে। তালিকা তৈরি করে দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা রাখি দ্রুত সোলার লাইটগুলো মেরামতের মাধ্যমে সচল করে জনসাধারনের উপকারে নিয়ে আসতে পারবো।
