বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৬ ২০২৬

ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা চাঁদপুরের তিন উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলায় জুন মাসে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ দ্বিগুণ বা তিনগুণ বিল পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক।

সূত্র জানায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫১২ জন। এদের মধ্যে বহু নিয়মিত গ্রাহক, যাদের গড় মাসিক বিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে থাকত, তারা এখন হাতে পেয়েছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার বিল। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন বলেন, “প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এবার জুনে বিল এসেছে ১ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। অভিযোগ করতে গেলে অফিস বলছে, গরমে নাকি ফ্যান বেশি চালালে এমন হয়!”

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় মিটার রিডিং না নিয়েই অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি করে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সংযোগ নেওয়ার সময় মিটারের মূল্য পরিশোধ করা হলেও মাসে মাসে অতিরিক্ত চার্জ ধার্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতি বছর জুন মাসে ক্লোজিংয়ের কারণে অন্যান্য মাসের তুলনায় বিল কিছুটা বেশি হতে পারে। পূর্ববর্তী মাসে যদি কোনো ইউনিট বাদ পড়ে, তবে তা জুনে যোগ হয়। গ্রাহক চাইলে মিটারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।”

এ বিষয়ে সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অঃদাঃ) গোবিন্দ আগরওয়ালা বলেন, “ভুতুড়ে বিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি বিল মিটারের রিডিং অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়। যদি কোনো গ্রাহক বিল অস্বাভাবিক মনে করেন, তাহলে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা মিটার পরীক্ষা করে ইউনিট যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যদি কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।