ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী বলেন, দেশে একটি পরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। তাদের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে। রাষ্ট্রে সরকারের বহু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি, তারা সবসময় বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর সোনার বাংলার প্রোগ্রাম নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন, সবুজ বিপ্লবের ধারা নিয়ে এসেছিলেন জিয়াউর রহমান, পরে এরশাদ এসেছিলেন নতুন বাংলাদেশ নিয়ে। কিন্তু সোনার বাংলায় সোনা ফলাতে পারে নাই, সবুজ বাংলায় বাংলাদেশে সবুজের সমারহ ঘটেনি, নতুন বাংলাদেশে নতুন কিছু পাইনি জনগণ। কারণ সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ চাই, সবুজ বাংলা গড়তে সবুজ তাজা তরুণ দরকার। নতুন বাংলায় নতুন চিন্তা চেতনার দরকার, যেটা গত ৫৪ বছরেও আমরা পাইনি।
৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালিরবাজার মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখা আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর ৫৫ বছরের মধ্যে গত ১৫ বছরের একটি অন্ধকার যুগ আমরা অতিক্রম করেছি। এই ফরিদগঞ্জ উপজেলা তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী। এখানে ৪৮ জন ভাই বোনকে শহীদ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি পেতে জুলাই আন্দোলনে ১৪শ’র বেশি ভাই-বোন ও যুবক শাহাদাত বরণ করেছেন। এসময় শিশু ও মা বোনেরাও রেহাই পাইনি, তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আবু সাঈদ সহ বাংলাদেশের তরুণ সমাজ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ৩০ হাজারের অধিক তরুণ, যুবক নারী-শিশু আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনেকে এখনো হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর হত্যা, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে আমাদের। এতো কিছুর বিনিময়ে যে নির্বাচন আমরা করতে চাই, সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবার যদি পুরনো অবস্থা ফিরে আসে তাহলে দেশের মানুষের দুঃখ ঘুচবে না। আগামীর বাংলাদেশ যদি ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণের বাংলাদেশ গড়তে হলে মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে দায়িত্বশীল সংগঠন হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যারা বাংলাদেশের সোনার মানুষ উপহার দেবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ে ন্যায় ও ইনসাফের, কল্যাণের ও মানবিক বাংলাদেশ উপহার দিবে। এজন্য তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা সহ ১১দলীয় জোটের সকল প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ হারুন-অর রশিদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, মানবিক বাংলাদেশ। আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চান না, পরিবারের বিজয় চান না তিনি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চান। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আবু হানিফের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো: ইউনুস হেলাল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন, চাঁদপুর জেলা শিবিরের সেক্রেটারি হাছিবুর রহমান, হাবিবুল্লাহ ভুঁইয়া সহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় নৈতিকতা, যোগ্যতা ও জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী অনেক এগিয়ে রয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরায় জনগণের মধ্যে তাকে নিয়ে আশার সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা শেষে কালিরবাজারে মিছিল বের করা হয়।
