রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া (৪৮)। তার মৃত্যুতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ওলীপুর তালুকদার বাড়িতে নেমেছে শোকের ছায়া।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর ‘সি’ ব্লকের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় তিনজন দুর্বৃত্ত।
পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে দোকানের ভেতরে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা তার মাথা, বুক ও পিঠে টার্গেট করে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত গোলাম কিবরিয়া একসময়ে জাতীয় দলের ফুটবলার ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত মোহাম্মদ আলী। তারা ৪ ভাই ও ১ বোন এর মধ্যে দুই ভাই ইউরোপে বসবাস করেন। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
পরিবার জানায়, ছোটবেলা থেকে পরিবারের সবাই ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জানাজা শেষে সেখানেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।
নিহতের খালাতো ভাই মো. পারভেজ বলেন, ‘আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিলেন। গত বছর বাড়িতে এসেছিলেন। একসময় ভালো ফুটবলার ছিলেন তিনি। বিএনপি করার কারণেই কয়েকবার জেল খাটতে হয়েছে। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ওলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল হাসান বেনু বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া ভাই ও তার ছোট ভাই কবির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যে গ্রামে আসতেন। তিনি নিরঅহংকার মানুষ ছিলেন। সম্পর্কে তিনি আমার মামাতো ভাই। ছোটবেলা থেকেই তারা ঢাকায় বসবাস করেন।’
খায়রুল হাসান বেনু হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘গোলাম কিবরিয়া একজন সৎ ও নিরহংকার মানুষ ছিলেন। তার মতো মানুষকে কীভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তার পরিবারের পাশে আছি এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারাই জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাই।’
