বুধবার , এপ্রিল ১ ২০২৬

হাইমচরে ভাসমান মেডিকেল মোবাইল হাসপাতালের উদ্বোধন

চাঁদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২ লাখ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ফ্লোটিং মেডিকেল মোবাইল ইউনিট’ প্রকল্পের অধীনে ভাসমান মেডিকেল মোবাইল হসপিটালের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলার হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা সচিব মো. সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আবু জাফর, বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান, কিং আবদুল্লাহ হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (KAHF)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলাইমান আবদুলআজিজ আজ্জাবিন এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের স্পেশাল ও ট্রাস্ট ফান্ড বিভাগের পরিচালক আদিল এম, আলশারিফ।

ফ্রেন্ডশিপ এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান তার বক্তব্যে জানান, তাদের পাঁচটি হাসপাতাল সমন্বিত এই প্রকল্পটি আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ উপকূলীয়, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্বের নদীবেষ্টিত ১২টি জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ৩২.৭ লাখ মানুষের কাছে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই উপজেলাগুলো হলো বাকেরগঞ্জ, আমতলী, কলাপাড়া, জগন্নাথপুর, আজমিরিগঞ্জ, বেড়া, কুমারখালী, মলো, দাকোপ, হাইমচর, রামগতি, ভোলা সদর ও দৌলতখান।

এ সময় হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দীন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নুর আল দীন, জননেতা এডভোকেট মো: শাহজাহান মিয়া সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কিং আবদুল্লাহ হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (KAHF), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB), বাংলাদেশ সরকার (GoB) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে যারা এতদিন মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এই ভাসমান হাসপাতাল তাদের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।