মতলব দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবেশে চালককে কুপিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে উপজেলার নারায়ণপুরের বাদামগাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
নিহত শাওন সরকার (১৯) উপজেলার উত্তর নলুয়া এলাকার ইকবাল সরকারের ছেলে। মা রোকসানা বেগমকে নিয়ে তিনি উপজেলা শহরের টি অ্যান্ড টি এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন। কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। ভাড়া করা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চলত তাদের।
তাৎক্ষণিক আটক তিনজনের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকা থেকে মাছুয়াখাল এলাকায় যাওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে কয়েকজন লোক যাত্রীবেশে শাওনের অটোরিকশায় ওঠেন। বাদামগাছতলা এলাকায় পৌঁছালে তারা নেমে যাওয়ার কথা বলে অটোরিকশাটি থামান।
সেখানে থামাতেই শাওনের মাথা, চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। এ সময় অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। পরে লোকজন ধাওয়া দিলে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান তারা।
শাওনকে উদ্ধার করে প্রথমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের মৃত্যুতে পাগলপ্রায় মা রোকসানা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, “ছেলেডারে পরিকল্পনা কইরা ওরা মাইরালাইছে। ছেলেডা খুন অইল। এহন আমি কী লইয়া বাঁচুম? আমার সব শেষ।
“ছেলেই ছিল আমার সবকিছু। ছেলের আয়েই সংসারের খরচ চলত। এহন সংসার কে চালাইব? আমি ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
খবর পেয়ে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ওসি সালেহ আহাম্মদ বলেন, শাওনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।
এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু আলামতের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অটোরিকশাটি একটি পিকআপ ভ্যানে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমরা সেটাও শনাক্ত করেছি। অচিরেই তাকেও আটক করতে সক্ষম হব।”
