বুধবার , জানুয়ারি ১৪ ২০২৬

চিকিৎসক আসেন ১০টার পর, বারোটায় ছুটেন প্রাইভেট চেম্বারে

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট আর অব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষের কাছে অকার্যকর হয়ে উঠছে। চরাঞ্চলসহ ১ পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের ৪ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এখন যেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তিন বছর আগে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সেটির কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। নতুন ভবন থাকলেও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সরঞ্জাম। গাইনি সার্জন, এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ, এক্স-রে টেকনিশিয়ানসহ ১৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

জরুরি সময়ে সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করা যায় না। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের জন্য এটি বড় আঘাত। ১৬ বছরে ১৪ বছরই হাসপাতালে গাইনি সার্জন ও এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছিলেন না। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতো।

হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিন ১৩ বছর যাবত অচল। অপারেটর না থাকায় একসময় বাক্সবন্দী ছিলো। এখন আবার ঘন ঘন নষ্ট হয়। চিকিৎসকদের মতে, এক্স-রে ফিল্ম দেখে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রোগীরা বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে যাচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালে আউটডোর শুরু হওয়ার সময় সকাল সাড়ে আটটা হলেও অনেক চিকিৎসক আসেন ১০টার পর। আবার দুপুর সাড়ে বারোটার মধ্যে প্রাইভেট চেম্বারের দিকে ছুট যান। রোগীরা জানাচ্ছেন, এর ফলে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা পান না।

ছেংগারচর পৌরসভার জোরখালী গ্রামের নাছির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে আইছিলাম স্ত্রীর বাচ্চা হইবো বলে। কিন্তু অপারেশন হয় না। অহন প্রাইভেটে যাইতে হবে। টাকা নাই, দেনা করে জীবন চালাই, অথচ গরিবের হাসপাতাল গরিবরে নেয় না।

কলাকান্দা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান জানান, এখানে ডাক্তার থাকলে গরিব মায়েরা নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পারতো। আমার এলাকার এক দরিদ্র মা সন্তান বিক্রি করে প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের বিল পরিশোধ করেছে এটা কতটা করুণ ভাবুন!

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মেহেদী হাসান নাহিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবু আমরা যতটুকু পারি, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো জনবল নিয়োগ হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।