হাইমচরে জামায়াতের উদ্যোগে বাছাইকৃত কর্মীদের প্রশিক্ষণ

আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দাওয়াত সকলের নিকট পৌঁছে দিতে হবে
——এডভোকেট মোঃ শাহাজাহান মিয়া
মোঃ আক্তার হোসেন
হাইমচর উপজেলার ৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২১ আগস্ট সকাল ৬ টায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও চাঁদপুর-০৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ আবুল হোসাইন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওঃ মোঃ জাফর সাদেক।
অনুষ্ঠানে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা মোঃ এমদাদ হোসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা, দিন ও দুনিয়ার এবং আমলের বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশে আগামী দিনের সৎ যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য মানুষকে ক্ষমতায় নিতে হবে। তার জন্য নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ যিনি আল্লাহকে ভয় করেন এমন মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠনে সুযোগ বিএনপিকে সুযোগ না দিতো বাংলাদেশের ভাগ্য ভিন্ন রকম হতে পারতো।
কিন্তু এর পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামী কিছুই গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের নিঃস্বার্থভাবে সমর্থন জানিয়েছি সরকার গঠনে। আপনারা যতক্ষণ জনগণের পক্ষে থাকবেন, ইসলামের পক্ষে থাকবেন ততক্ষণ আপনাদের সাথে আছি আর যখন জনগণের বিপক্ষে যাবেন আপনাদের সাথে নাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিএনপিকে এমনভাবে সহযোগিতা করেছি সারা জীবন বললেও শেষ হবে না। কারণ বিএনপিকে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনে নিঃস্বার্থভাবে জামায়াতে ইসলামী সুযোগ করে দিয়েছিল।
অনুষ্ঠানের সভাপতি তার বক্তব্যে কর্মীদের কাজ ও কর্মী হওয়ার জন্য যে শর্তগুলো রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এখনো আমাদের আশে পাশে যে সকল ভাইয়েরা জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পায়নি, ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পায়নি, আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দাওয়াত পায় নাই সে সকল ভাইদের আমাদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, কারণ আমরা দেখছি এ সমাজে যারা প্রতিনিধিত্ব করছে যারা মেম্বার চেয়ারম্যান হচ্ছেন এরা সবাই গাজাখোর, মদখোর, বে-নামাজি। সমাজকে পরিবর্তন করতে চাইলে সমাজের মানুষের কল্যাণে কিছু করতে হবে। রিলিফের মাল যারা নিজেরা ভোগ করে এ রকম প্রতিনিধিদের পিছনে ফেলে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তাহলে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে আমানতদার হিসেবে তৈরি করতে হবে। সামনে স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়নের প্রত্যেকটা ওর্য়াডে সৎ যোগ্য ন্যায়পরায়ন প্রার্থী দিতে চাই। পাশাপাশি এদের দেখার জন্য একজন যোগ্য আমানতদার খোদাভীরু চেয়্যারমান দিতে চাই।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ আবু হানিফ। সবশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যামে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।