বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জে গত সাত-আট দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম, ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গোবিন্দ আগারওয়াল জানান, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর প্রভাবেই হাজীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “হাজীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”

জিএম গোবিন্দ আগারওয়াল আরও জানান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতায় বর্তমানে বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট, অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট। এই বড় ধরনের ঘাটতির কারণেই বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং লোডশেডিং অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। ফলে খুব শিগগিরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং অনেকটাই কমে আসবে।

এদিকে, টানা কয়েকদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাজীগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।