
স্টাফ রিপোর্টার
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুর সীমানাধীন পদ্মা-মেঘনা নদীতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের বিশেষ মৎস্য নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হতে যাচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির কঠোর নজরদারি এবং প্রশাসনের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞার ২০টি দিন পার হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের দায়ে এ পর্যন্ত ১৮৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সর্বশেষ অভিযানের তথ্যচিত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফল করতে জেলাজুড়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে প্রশাসন। গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিগত ২০ দিনে চাঁদপুর জেলায় মোট ৯০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ২২৯টি পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে। এই সময়ে ৩৬টি মাছ অবতরণ কেন্দ্র, ২৪৮টি মাছঘাট, ১ হাজার ২৫৩টি আড়ত এবং ২৬৯টি বাজার নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে মনিটরিং টিম।
টাস্কফোর্সের এসব অভিযানে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোট ১৬০টি মামলা দায়ের এবং ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২.৭৩৯ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ এবং ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার নির্ধারিত এই বিশেষ নিষেধাজ্ঞা সফল করতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে মাঠে কাজ করেছে। মা ইলিশের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে জেলা টাস্কফোর্সের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে মেঘনা নদীতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান পরিচালনাকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমা, সহকারী কমিশনার এ হাশেম, সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজমগীর হোসাইন এবং কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা আবারও নদীতে ইলিশ আহরণে নামতে পারবেন।

















