চাঁদপুর সরকারি কলেজের জিয়া হলের এক শিক্ষার্থী সালাম না দেওয়া এবং সিনিয়রদের সামনে একপাশ হয়ে না দাঁড়ানোর অভিযোগে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. রায়হান কবির, ইংরেজি বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, অনার্স তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী গত দু সপ্তাহ ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে।
রায়হান জানান, সোমবার রাত ১২টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত তাকে জিয়া হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এ সময় সিনিয়ররা তার মা-বাবাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে। এমনকি তাকে বলা হয়, “র্যাগিং-এর কী দেখেছো? ফজর পর্যন্ত বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিনিয়রদের একটি অংশ নিয়মিত রাতে ডেকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে চাপ প্রয়োগ করে। রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো, সে নাকি সিনিয়রদের সম্মান করে না এবং তাদের কথা শোনে না-এই অজুহাতেই তাকে র্যাগিংয়ের শিকার করা হয় বলে দাবি তার।
ঘটনার রাতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আব্দুল মাননান ঘটনাটি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনজন শিক্ষককে জিয়া হলে পাঠান।
এরা হলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান মিয়া, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুজ্জামান এবং জিয়া হলের সুপার খালেদ ইকবাল। তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, র্যাগিং নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি চাঁদপুর সরকারি কলেজে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
chandpurdiganta.com The Daily Chandpur Diganta
