আমরা নেতা নই দলের ডাক পিয়ন। আমাদের কাজ হলো দলের প্রচার করে প্রতিটি মানুষের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া এমনটাই বলেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং চাঁদপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আজম খান।
শুক্রবার (১৫ আগষ্ট) সকাল ১১ টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর সদর ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন এর চাঁদখার বাজার, রালদিয়া,, হোসেনপুর, পিংড়া মদিনা বাজার ও আশিকাটি এলাকার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ ও বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারেক রহমান এর নির্দেশে লিফলেট বিতরণ কালে জনগণের উদ্দেশে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে চাঁদখার বাজার কাশেম খাঁন বাড়ির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত করেন। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও পরিবারের সকলের জন্য দোয়ার শেষে মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণ করে মরহমদের কবর জিয়ারত করেন।
পরে ইউনিয়ন এর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম বিল্লাল সরকার এর ২নং ওয়ার্ড সরকার বাড়ির কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করে, পরিবারের খোজ খবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন মরহুমের ছেলে সুজন সরকার বিগত কয়েক মাস মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সুজনের স্ত্রী দুই শিশু সন্তান নিয়ে ন্যায় বিচারের দাবি করে আদালতের কাছে স্বামীর জামিনের আবেদন করেন। সে সময় আজম খান বলেন বিষয়টা খুবই দুঃখ্য জনক, আমি চেষ্টা করবো সুজন কে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত করার, আর আমি আপনাদের পাশে থাকবো যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে জানাবেন।
পরে তিনি উল্লেখযোগ্য বাজার ও হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নেতা কর্মিদের সাথে মিলিত হয়ে বক্তব্য বলেন আমরা যারা বিএনপি করি তাদের সকলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং জনাব তারেক রহমান। আমরা সবাই তাদের এবং ধানের শীষের কর্মী। আমরা হচ্ছি ডাক পিয়ণ তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল সেটা বোঝাতে হবে।
এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। দল থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইবে সেটি, তার অধিকার। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই তার জন্য, ধানের শীষের জন্য এবং বিএনপির জন্য কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়া, আমরা কোন নেতা না আমরা সকলে ধানের কর্মী। পরে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে -বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দেন। আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। যে আদর্শের দেশপ্রেম এবং গণ মানুষের প্রতি দায়বোধ ছিল। জিয়াউর রহমান বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার।
তিনি আরও বলেন, আমরা তার আদর্শ, দেশপ্রেম এবং গণমানুষের ভালোবাসার উপস্থিতি জনাব তারেক রহমানের উপর দেখতে পাই। তারেক রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী। আগামীর বাংলাদেশ তার হাতেই নিরাপদ। যার ফলে বিএনপির বিকল্প আর কিছু নেই। বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে জিম্মি করে উন্নয়নের নামে লুটপাট আর দুর্নীতি করেছে। যার কর্মের ফল হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পলায়ণ হয়েছে বলে আজ মানুষ কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। অপরাজনীতি, দুর্নীতি কিংবা মানুষের হক নষ্ট করার কোন ইচ্ছে আমার নেই।
উক্ত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নেওয়াজ খান, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সাহাদাত খান, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা জাসাসের আহ্বায়ক এমদাদুল হক মিলন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক আক্তার হোসেন, বিএনপি নেতা মহসিন, তুষার খান, তোফাজ্জল খাঁন, সাগর, নয়ন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ। পথসভা কালে ইউনিয়ন এর ২টি মসজিদ ও ১ টি মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
chandpurdiganta.com The Daily Chandpur Diganta
