কেন্দ্র ঘোষিত ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাসান আলী মাঠে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের পথেঃ বাসস্ট্যান্ড থেকে মিশন রোড়, হাজী মহসিন রোড়, নতুন বাজার হয়ে বাইতুল আমিন চত্তর পর্যন্ত।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য, জেলা জামায়াতের আমীর ও ফরিদগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার বাণিজ্য বন্ধ হবে। জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে পিআর পদ্ধতি মেনে নিতে হবে। স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। জামায়াত ইসলাম কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাও: আব্দুর রহিম পাটওয়ারী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ও সদর-হাইমচর আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাড. শাহাজান মিয়া। তারা বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তারাই পিআর নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা ভোটাধিকার নিয়ে বাড়ি ফিরব। জামায়াত এদেশে ভেসে আসা দল নয়। জনগণ জামায়াতকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।
শহর জামায়াতের আমীর এড: শাহজাহান খান এর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী, সহকারী সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ এবং শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম সবুজ।
নেতৃবৃন্দরা বলেন, দেশে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে পিআর পদ্ধতি অপরিহার্য। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
সমাবেশে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি হলো— ১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন। ২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু। ৩. সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার। ৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসান আলী মাঠে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
