শুক্রবার , জুলাই ১২ ২০২৪

তবু বাণিজ্য মেলা চলবে, বিপিএল চলবে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, চার মাসের মাথায় ফের স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে সরকার; অর্ধেক লোকবল নিয়ে অফিস চালাতে বলা হয়েছে; তবে বাণিজ্য মেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।

জানতে চাইলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব ও মেলার পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাণিজ্য মেলা চলবে। স্বাস্থ্যবিধিতে যা বলা আছে তাতে মেলা বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার নতুন ছয় দফা বিধি-নিষেধ সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এসব বিধি-নিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে, শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে

একশ জনের বেশি মানুষের সমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন, তাদের অবশ্যই টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআরে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট দেখাতে হবে।

কিন্তু ঢাকায় এখন মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা চলছে, বইমেলার প্রস্তুতি চলছে; ক্রিকেটের আসর বিপিএলও শুরু হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কী হবে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেন, যে কোনো জনসমাগমে যেতে হলে টিকা সনদ নিয়ে যেতে হবে। এটা সব জায়গায় প্রযোজ্য হবে।

“বই মেলা, স্টেডিয়াম, বাণিজ্যমেলাসহ সবখানেই এখন থেকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে। সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”

তার ভাষায়, স্টেডিয়ামের বিষয় যখন আসে, সেখানে তো আর একশ জনের বেশি লোক যাবে না, এমন বলা যায় না।

“খেলা তো স্টেডিয়ামে হয়। সেখানেও টিকা সনদ নিয়ে আর টেস্টের সনদ নিয়ে যেতে হবে। এর বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়।“

বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা মীর ব্রাদার্সের কর্মকর্তা তারেক মোশাররফ মুকুল জানান, নতুন বিধিনিষেধের কারণে মেলায় দর্শনার্থী গত শুক্রবারের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

“গত শুক্রবার ৫০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছিল। আজকে সর্বমোট ৪০ হাজার দর্শনার্থী আসতে পারে বলে আমাদের ধারণা।”

তবে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির

প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ পরিস্থিতিতে মেলা চালানোর পক্ষে নন।

তিনি বলেছেন, “আমার মনে হয়, টোটালি বাণিজ্য মেলাটা বন্ধ করে দিতে পারলে ভালো হত, অনেস্টলি স্পিকিং।”

কোভিড মহামারীর কারণে এক বছর ছেদ পড়ার পর পূর্বাচলের নতুন ঠিকানায় ১ জানুয়ারি শুরু হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ঘোষণা অনুযায়ী পুরো জানুয়ারি মাস এ মেলা চলার কথা।

শেরে বাংলা নগরের পুরনো ঠিকানা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরুতে মেলা তেমন জমেনি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে ভীড়-ভাট্টা বাড়তে শুরু করে, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ার ঘটনাও সামনে আসছিল।

এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করে ১০ জানুয়ারি, যা কার্যকর করা হয় ১৩ জানুয়ারি থেকে।

সেসময় মেলার পরিচালক বলেছিলেন, “মাস্ক ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মেলার ভেতরেও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”

দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় শুক্রবার সকালে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেখানে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।