মঙ্গলবার , জুন ২৫ ২০২৪
Diganta-

 চাঁদপুর প্রায় ৪’শ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ৪ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী # প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ফেডারেশন অব বিকেজি অ্যাসোসিয়েশন।

করোনা সঙ্কটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জেলার প্রায় ৪ শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সাথে এ সকল স্কুলের ৪ সহস্রাধিক শিক্ষক এবং কর্মচারী। বেতনের টাকা না পেয়েই হঠাৎ বন্ধের শিকার এ সকল শিক্ষক-কর্মচারী। বিপর্যয়ের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন (এফবিকেজি) অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষকের নাম-ঠিকানা-মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত তালিকাসহ মানবিক আবেদন গ্রহন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক আব্দুল্লাহ মাহমুদ জামান।
সারা পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশও আজ করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত। প্রতিদিনই অনেকে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, আবার মারাও যাচ্ছেন অনেকে। এ ভাইরাসের কারণে কম-বেশি সকলেই রয়েছেন আতঙ্কিত অবস্থার মধ্যে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যে সরকারিভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ।
প্রায় সব কিন্ডারগার্টেন সম্পূর্ণভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া মাসিক বেতনের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি মালিকানা ও সমষ্টিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টরা বর্তমান সময়ে কঠিন সময় পার করছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদেরকে সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের ২/৩ মাসের টাকা বাকি রেখে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে হয়। এমনই অবস্থায় বর্তমানে করোনা সঙ্কটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রায় ৩-৪ মাস বন্ধের ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রকট আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে কেজি স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেজি স্কুলগুলোতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ নামমাত্র মাসিক সম্মানী নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ছোট ছোট সোনামণিদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাদের সম্মানীভাতা এতো কম যে, যা সরকারি স্কুল বা সরকারি যে কোনো দপ্তরের একজন কর্মচারীর ১ দিনের বাজার খরচও নয়। এমনি একটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকগণ দিশেহারা অবস্থার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ফেডারেশনের জেলা আহবায়ক ও চাঁদপুর শহর ব্যাংক কলোনী মডার্ণ শিশু একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো: ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা অহরহ ভর্তুকি নয়তো বাকি রেখে সেবার মান ও স্কুলের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছি। মজিবশতবর্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক স্তরের এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কষ্টসাধ্য অবস্থান ও বিদ্যমান বৈষম্য অবশ্যই আপত্তিকর।

বর্তমান সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিকসহ সকল স্তরে যেই বেতন কাঠামো চালু রেখেছে তা এতোই সন্তোষজনক যে বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি কেজি স্কুলগুলোতে আরো গতিময়তা সৃষ্টির জন্যে, বিশেষত সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী চাপ কমাতে ও মাধ্যমিকে ভালো শিক্ষার্থী প্রেরণে কেজি স্কুলের ভূমিকাকে উৎসাহিত করার জন্য শিক্ষকদেরকে আর্থিক প্রণোদনা বা সহযোগিতা দেয়া উচিত মনে করি।
কেজি স্কুলের এ শিক্ষদের অবদানের ধারাবাহিকতায় এসএসসিসহ উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে অনেক ভালো ফলাফল অর্জিত হচ্ছে। কেজি স্কুলগুলোর প্রতি শ্রেণীতে ২০-২৪ জনের ভর্তি ও আসন, শিক্ষকরা সকল বিষয়ে স্কুল প্রশাসনের নিকট সার্বক্ষণিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি কার্যক্রম, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। সর্বোপরি পিইসিতে সকলের মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জনে অভিভাবকদের আন্তরিক চেষ্টা এ সাফল্যের কারণ।
এ পরিস্থিতিতে করোনা চাপের মধ্যে বৈষম্যের শিকার হয়ে কেজি স্কুলগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আগের অবস্থানে যেতে হিমশিম খাবে কিন্ত কেজি স্কুলগুলোর প্রচেষ্টা, তাদের শ্রম, মেধা ও সমষ্টিগত অর্জন জাতীয় সকল ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয় বিধায় তা সামলে উঠতে নানামুখি কাজে এই বন্ধের মাঝেও শিক্ষার্থীদের পাঠ বিকল্প চালাতে সচেষ্ট রয়েছেন শিক্ষকরা।

কেজি স্কুলগুলোর সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক অনটন, শিক্ষক-মালিকদের দায়বদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এস্যোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার সদস্য সচিব প্রভাষক মো: মাহফুজ উল্যাহ ইউসূফী।

তিনি বলেন- অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ভাড়াকৃত ভূমি বা ভবনে গড়ে উঠেছে, এসকল প্রতিষ্ঠান বেশী আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে, ভাড়া বিষয়েও প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত পেলে স্কুল মালিক পক্ষ উপকৃত হবেন, যা সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।