চাঁদপুরে আইফোন থার্টি প্রো কিনতে এসে প্রতারকের খপ্পরে পড়েন মাদারীপুরের ৩ যুবক। পরে তাদেরকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ নিয়ে যায় প্রতারকচক্র। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় শহরের চাঁদপুর প্রেসক্লাব ঘাটের গুরুরচরে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহতরা হলেন- শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আফনান (১৮), মাদারীপুরের কালিকিনি থানার শিকিরমঙ্গল গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আল আমিন (২৪), একই এলাকার সোলায়মান মিয়ার ছেলে রাহাত (১৮) ও জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত হাসান জিহাদ (১৮)।
জানা যায়, চাঁদপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আইফোন থার্টি প্রো বিক্রি করা হবে বলে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপনটি নজরে আসে মাদারীপুরের আল-আমিনের। পরে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় মোটরসাইকেলযোগে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন ৩ বন্ধু আল-আমিন, রাহাদ ও জিহাদ। দুপুর ১২টায় শহরের কালিবাড়িতে এসে পৌঁছান তারা। প্রতারকচক্রের সদস্যরা তাদেরকে নিয়ে যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব ঘাটের গুরুরচরে। সেখানে প্রতারকচক্রের সদস্যরা পেটে ছুরি ধরে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় আফনান প্রতারকচক্রের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতারকচক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসা শেষে মাদারীপুরের ৩ বন্ধু বর্তমানে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
মাদারীপুরের আল-আমিন, রাহাদ ও জিহাদ বলেন, আফনান প্রতারকচক্রের সদস্যদের সঙ্গে ছিল। আমাদেরকে ছুরি দিয়ে আঘাতের সময় তা আফনানের পেটে লাগে। আমাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা তারা নিয়ে গেছে। তারা প্রায় ১৭-১৮ জন ছিল। আমাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশ আসায় নিতে পারেনি।
আফনানের মা জানান, তার বাবা চাঁদপুরে চাকরি করেন। সেই সুবাদে ৭-৮ দিনের জন্য চাঁদপুর বেড়াতে এসেছেন। আফনান কীভাবে কার সঙ্গে এখানে এসেছে, তা তিনি জানেন না।
হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান জানান, আফনানের পেটের অনেকটা ভেতরে ছুরি ঢুকে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আর অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাদারীপুরের ৩ যুবক পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে প্রতারক কিশোরদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
chandpurdiganta.com The Daily Chandpur Diganta
