সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে: হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান

চাঁদপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ এ বি এম আশ্রাফ উদ্দিন নিজান বলেন, মাদকসেবীদের একসঙ্গে রাখা যাবে না। তাদের আলাদাভাবে রাখতে হবে। মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুর ইলিশের প্রধান প্রজনন কেন্দ্র। সারা পৃথিবী চাঁদপুরকে ইলিশের জন্য চেনে। তাই ইলিশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কোস্টগার্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, মালামাল জব্দ করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোনো মামলা বা কাউকে আটক করা হয়নি—এটা কেন হবে? জব্দ করা মালামালের ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা করতে হবে এবং জড়িতদের আটক করার নির্দেশ দেন তিনি।

চাঁদপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় মাত্র দুইজন সহকারী অফিসার দিয়ে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে হুইপ নিজান জানান, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল, সেটি পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। বিদেশগামীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েও যেন অযথা ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হুইপ বলেন, এটা তারেক রহমানের সরকার। সরকারের নীতিমালার বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ীই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা নিজেরা উপস্থিত না হয়ে প্রতিনিধি পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুইপ এ বি এম আশ্রাফ উদ্দিন নিজান। গুরুত্বপূর্ণ জেলা পর্যায়ের সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের সরাসরি উপস্থিত থেকে নিজেদের কার্যক্রম ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনে তৎপরতা বেড়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে অফিস আছে তা ভূমি অফিসের সরকারি জায়গায়। সেই ভবনে মাদকাসক্তদের আস্তানা হয়ে উঠেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনে লোকদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে তারা তারা নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, সাবরেজিস্টার অফিস এখনো পূরণো ধারায় চলছে। আমরা দোষারোপ না করে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী করতে হবে। সকল ক্ষেত্রেই আইন মেনে চলতে হবে। এত বছর যেভাবে চলেছে, এখন আর সেভাবে চলা যাবে না। নতুন বাস্তবতায় সবাইকে আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নতি করা দরকার। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা করা খুবই জরুরি। চাঁদপুরের সকল নাগরিক কৃতজ্ঞ থাকবে। রোগী মারা যাওয়ার পর সমাজসেবার বরাদ্দ দিয়ে লাভ কী? আবেদন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সময়মতো সরকারি সহায়তা পান।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার আমাদের না জানিয়ে আমাদের নির্বাচনী এলাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমরা কষ্ট পাই। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, খুনের মামলার আসামিরা জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন—এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসনের কোনো আচরণে যেন এমনটা প্রকাশ না পায় যে, তারা বিশেষ কোনো দলের নিয়োগপ্রাপ্ত।

ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভূমি অফিস এখনো পুরোনো কায়দায় চলছে। আমরা সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আন্তরিকতা চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, কোন উপজেলায় কোন দপ্তরের কী কী কাজ হচ্ছে বা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থাপন করলে সবাই জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে।